• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪১ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
বিশ্ব স্ট্রোক দিবস: স্ট্রোকের ঝুঁকি, রিহ্যাবের সংকট ও পুনর্বাসনে সচেতনতার আহ্বান তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার হত্যা মামলায় মাগুরার সাবেক ওসি ও এসআই জেলহাজতে ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে ৯ কর্মকর্তা প্রত্যাহার সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় জলঢাকা পৌরসভার সাবেক মেয়র গ্রেপ্তার রানীরবন্দরে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী ব্যবসায়ী নিহত “ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী” চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪

সৈয়দপুরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড, জনজীবন বিপর্যস্ত

সিসি নিউজ।। তীব্র তাপ দাহে বিপর্যস্ত উত্তরের জেলা নীলফামারীর জনজীবন। আজ মঙ্গলবার জেলার সৈয়দপুরে ৪০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। যা দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। এর আগে বৃহস্পতিবার (১ জুন) একই তাপমাত্রা ছিল।

সৈয়দপুর বিমানবন্দরের আবহাওয়া কর্মকর্তা মো. লোকমান হাকিম বলেন, ‘গত ২৫ মে থেকে জেলার ওপর দিয়ে মাঝারি থেকে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এ সময়ে গড় তাপমাত্রা ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। বাতাসের আর্দ্রতা ৬০ থেকে ৭০ ভাগ। এটি গড় করলে হবে ৬৫ ভাগ। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকার ফলে ভ্যাপসা গরম অনুভূত হচ্ছে। এই অবস্থা আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগামী ১৩ থেকে ১৪ জুনের মধ্যে বৃষ্টির পূর্বাভাস আছে। ওই সময়ে বৃষ্টি হলে তাপমাত্রা আস্তে আস্তে সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে। চলতি মাসের ১ তারিখ সৈয়দপুর আবহাওয়া কার্যালয়ে ১৫ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৪০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল। যাহা ছিল ওই দিন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।’

এদিকে তীব্র তাপ দাহে জনজীবনে স্থবিরতা নেমে এসেছে। জেলার অধিকাংশ মানুষ জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে আসেননি। মানুষকে বড় বড় গাছ তলায় বিশ্রাম নিতে দেখা যায়। প্রচণ্ড গরমের সঙ্গে বিদ্যুতের লোডশেডিং মানুষকে আরও বিপাকে ফেলেছে।

সৈয়দপুরের কামারপুকুর ইউনিয়নের কোরানীপাড়ার কৃষক রশিদুল ইসলাম বলেন, ‘তীব্র রোদের কারণে আমনের বীজতলা পুড়ে যাচ্ছে। দিনের বেলায় গ্রামের মানুষজন একটু প্রশান্তির জন্য ঘর ছেড়ে গাছতলা ও বাঁশতলায় বিশ্রাম নিচ্ছে।’

শহরের আখের রস বিক্রেতা আবুল হোসেন বলেন, ‘আগের চেয়ে প্রতিদিন তিন গুন বেশি আখের রস বিক্রি হয়। তবে প্রচণ্ড তাপ দাহে শহরের মধ্যে টিকে থাকা মুশকিল।’

নীলফামারীর সদরের উপজেলার সোনারায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রচণ্ড তাপের কারণে মাঠে কাজ করতে পারছে না শ্রমিক। অনেকে জীবিকার টানে কাজে নামলেও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন’।

সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালের আবাসিক কর্মকর্তা ডা. নাজমুল হুদা বলেন, ‘তীব্র তাপ দাহের ফলে বিভিন্ন রোগের সংখ্যা বেড়ে গেছে। যেমন সর্দি জ্বর, মাথা ব্যথা ও পেটের সমস্যার রোগী বেশি আসছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্ক রোগীরা বেশি এই তীব্র তাপ দাহে আক্রান্ত হচ্ছে।’

বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের বিষয়ে নীলফামারী নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আলিমুল ইসলাম বলেন, ‘চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম পাওয়া যাচ্ছে। এ কার্যালয়ের আওতায় ১১টি ফিডারে মোট ৩৬ হাজার ২৯৬ জন গ্রাহক। এসব গ্রাহকের জন্য প্রয়োজন ১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। সেখানে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ৯ থেকে ১২ মেগাওয়াট। এ জন্যে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।’


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

আর্কাইভ